রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলত


                                         রমজানের গুরুত্ব ফজিলত

পবিএ মাহে রমযানুল মুবারক একটি বরকতময় তাৎপর্যপূর্ন ইবাদতের মাস। যে মাসে স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজ বান্দাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি সত্তর গুন বেশি দান করেন। প্রতি নেক আমলকে অনকগুন বৃদ্ধি করে জান্নাতের উপযুক্ত করেন। হযরত আদম : হতে মুহাম্মদ সা : পর্যন্ত সকল নবী রাসুলদের যুগেই রোজা রাখার বিধান ছিল


সে দিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ সুবহানাহু ওতায়ালা বলেন ياايها الذين امنوا كتب عليكم الصيام كما كتب علي الذين من قبلكم لعلكم تتقون. হে মুমিনগন ! তোমাদের জন্য রোযা ফরজ কর হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তিদের উপর ফরজ করা হয়েছিল যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।


আরো ইরশাদ করেন :شهر رمضان الذي أنزل فيه القرآن هدى للناس و بينات من الهدى والفرقان فمن شهد منكم الشهر فليصمه রমজান মাস , এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরুপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে
সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা মাস পাবে তারা যেন মাসে সিয়াম পালন করে।


ইসলামের দৃষ্টিতে রোযা হলো , এমন এক সার্বজনীন ইবাদত যা রোযাদারকে দান করে আত্মার সজীবতা , রিদয়ের পবিত্রতা চিন্তাধারার বিশুদ্ধতা রোযার মাধ্যমেই লাভ করে বান্দা এক অপার্থিব স্বাদ, লাভ করে এক নতুন উদ্যম প্রেরণা রোযার উপর আল্লাহ সুবহানাহু ওতায়ালা যে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন তা এক মূহুর্তে মানুষকে করে তোলে ভোগে বিতৃষ্ণ , ত্যাগে উদ্বুদ্ধ এবং আত্নবিশ্বাসে বলীয়ান
হাদিসে কুদসীতে উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন : الصوم لي وان اجزي بيدي রোযা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর পুরস্কার দান করব


অন্য এক হাদিসে রয়েছে : للصايم فرحتان فرحة عند الافطر وفرحة عند لقاء ربه অর্থাৎ রোযাদার বেক্তি দুটি আনন্দ লাভ করবে একটি আনন্দ হলো ইফতারের মূহুর্তে আর অপরটি হলো তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের মুহূর্তে

রোযাই আত্মশুদ্ধি সংযমের অন্যতম উপায় যার মাধ্যমে স্রষ্টাকে পাওয়া যায় সাস্হ্য রক্ষা করা যায় এইডস , সিফিলিস, গনোরিয়া , গ্যাসষ্টিক, আলসার ইত্যাদি মারাত্মক রোগ হতে রক্ষা পাওয়া যায়
এবং অন্য এক হাদিসে রয়েছে যে ব্যক্তি রোযার মাস পেল কিন্তু আল্লাহ্ কাছে ক্রন্দন করে নিজের জিবনের গুনাহ ক্ষমা করাইতে পারলনা সে বেক্তি সবচেয়ে হতভাগ্য , বা দূভাগ্য

তাই আসুন আমরা বরকতময় রমজান মাসের গুরুত্ব অনুধাবন করে বেশি বেশি করে ইবাদত করে, রব্বে কারিমের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করি।
আল্লাহ আমাদের মহিমান্বিত মাসে ইবাদত করে তার সৎ ব্যবহার করার তৌফিক দান করুন
আমিন


মুফতী রিয়াজুল ইসলাম।
সিনিয়র শিক্ষক।
জামিয়া রাওজাতুল উলুম ঢাকা
উওরা ঢাকা-১২৩০।